কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ এ ১০:১৬ AM
কন্টেন্ট: পাতা
১৯৭১ সনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ আমল শুরু হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন সংবিধানে প্রাথমিক শিক্ষা রাষ্টের দায়িত্ব হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। বিধানগুলো হলো:
” যে সকল উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র একটি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করবে
(ক) একটি অভিন্ন, জনসম্পৃক্ত ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সব ছেলেমেয়ের জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার যা আইন দ্বারা নির্ণয় করা যেতে পারে।
(খ) শিক্ষাকে সমাজের চাহিদার সাথে সংযোগ করা এবং সমাজের ঐ সব চাহিদা পূরণে সক্ষম প্রশিক্ষত এবং প্রণোদিত নাগরিক তৈরী করা এবং
(গ) একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা আইন দ্বারা নির্ধারণ করা যেতে পারে”।
সরকার জাতীয় দায়িত্ব হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বীকার করে এবং শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার যা বাংলাদেশে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। স্বাধীনতার সূর্য্য উদয়ের পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে পুনর্জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তারই আলোকে, স্বাধীনতার পর পরই শিক্ষা ব্যবস্থা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। প্রতিবেশী দেশগুলোর শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বাধীন জাতি হিসাবে বাংলাদেশে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্টা করার জন্য এর উদ্দেশ্য, কৌশল এবং কর্ম পরিকল্পনা প্রনয়ণের লক্ষ্যে সুপারিশ করার জন্য ১৯৭২ সনে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।
১৯৭৪ সনে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিন্মলিখিত উদ্দেশ্যাবলী নির্ধারণ করা হয়:
শিশুর নৈতিক, মানসিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের উন্নয়নে শিক্ষাদান।
শিশুকে দেশপ্রেম, দায়িত্বশীল, অনুসন্ধিৎসু ও আইনপরায়ন নাগরিক হিসাবে তৈরী করা এবং তাদের সততা, সঠিক আচরণ, শ্রম, মর্যাদা, ন্যায়বিচারের প্রতি দয়ালু এমনভাবে বিকাশ সাধন।
মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে এবং গণনা ও হিসাব করতে সক্ষম হবে।
ভবিষ্যত নাগরিকের চাহিদা পূরণে মৌলিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।
পরবর্তী পর্য্যয়ের উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা।
নতুন একটি জাতির আশা আকাঙ্খার লক্ষ্য পূরণে শিক্ষা অত্যাবশ্যকীয়। এই লক্ষ্যে, শিক্ষা কমিশন পূর্বেই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারকে নিন্মলিখিত সুপারিশ করেন।
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা চালু।
অধিক ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্য্যায়ে অধিক মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা। প্রয়োজনে বালিকা বিদ্যালয় নির্মাণ করা।
১৯৮০ সনের মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন এবং ১৯৮৩ সনের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীতকরণ।
ঝরেপড়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন। আকর্ষনীয় পাঠ্যক্রম চালু, যথোপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকের উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশের উন্নয়ন।
অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু যা বৈজ্ঞানিক, বাস্তবভিত্তিক, সামাজিক অবস্থার সাথে মানানসই এবং পরিবেশের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষা চালু।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং যথোপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকের উন্নয়ন।
প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড স্থাপন।
এখানে উল্লেখ্য যে কমিশনের সকল সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে সরকার ১৯৭৩ সনে প্রাইমারী এডুকেশন টেকিং ওভার অ্যাক্ট নামে একটি আইন দ্বারা ৩৬,১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন এবং জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের ১৫৭,৭২৪ জন শিক্ষককে সরকারি চাকুরীজিবী হিসাবে ঘোষণা দেন। তারপর থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উন্নতি ও শক্তিশালীকরণ করা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়া হয়।
শিক্ষার উপজেলায় ১৯৮৫ খ্রিঃ উপজেলা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। অফিসটি উপজেলার মেইন ফটক দিয়ে ঢুকে সোজা গিয়ে হাতের বামে দক্ষিন বরবর অবস্থিত । । তিনটি কক্ষ নিয়ে অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল । শিক্ষা মান উন্নয়নে উপজেলা শিক্ষা অফিসের তৈরি হয় । এর ই প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা ভবন, তারাগঞ্জ নির্মিত হয় । বর্তমানে এটি দ্বিতল ভবন । এর পেছনে একটি মনোরম পুকুর আছে । সামনের দিকের ডান অংশে উপজেলা সাব রেজিষ্টার অফিস ও বামের দিকে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস সহ অন্যান্য অফিস আছে ।